রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের বাস্তব পরীক্ষা মহিউদ্দিন আহমেদ
ভূমিকা
পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল; সংসদে মনোনয়ন ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া ছিল কার্যত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সম্প্রতি তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, রাজনৈতিক চাপ এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরাকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিও এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এখন ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু এই নির্বাচন শুধু একজন নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার বিষয় নয়। এটি জুলাই সনদে জনগণের অনুমোদিত রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবে কার্যকর হবে কি না—তার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
আর এই পুরোনো ব্যবস্থা বহাল রাখা হলে বর্তমান সরকার কিংবা ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারও ঠিক শেখ হাসিনার পথেই হাঁটতে পারে—নিজের একক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পছন্দের মানুষকে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসিয়ে দিতে পারে।
এখানে যে নজির স্থাপিত হবে, তা কেবল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। “প্রস্তুতি শেষ হয়নি” বা “সময় নেই”—এমন অজুহাতে একবার গণভোটের রায় এড়িয়ে যাওয়া হলে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকার একই যুক্তিতে জনগণের অনুমোদিত যেকোনো অসুবিধাজনক সংস্কার পিছিয়ে দিতে পারবে। তাই প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত এই—গণভোটের রায় কি সরকারের রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার ঊর্ধ্বে, নাকি তা কেবল কাগজে-কলমে থাকবে?
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—নারী না পুরুষ, কোন দলের কিংবা কোন ব্যক্তি—সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো—
রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হবেন?
রাষ্ট্রপতি একজন ভালো, সৎ ও গ্রহণযোগ্য মানুষ হলেই যথেষ্ট নয়। তাঁকে এমন একটি স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হতে হবে, যাতে তিনি কোনো ব্যক্তি, সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলের প্রতি ঋণ বা আনুগত্যের চাপে না পড়েন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল শিক্ষা শুধু একজন শাসকের পতন নয়। এর বড় শিক্ষা ছিল—রাষ্ট্র যেন আর কখনো কোনো এক ব্যক্তি বা ক্ষমতাসীন নেতার ইচ্ছা ও পছন্দের ওপর নির্ভরশীল না থাকে।
অতীতে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা দলের প্রধানের পছন্দই কার্যত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াত। সংসদীয় ভোট থাকলেও সেটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছিল আনুষ্ঠানিকতা। ফলে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ত।
নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন কেন
জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতিকে আইনসভার নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মোট প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। গণভোটের প্রশ্নেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, পরবর্তী জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এবং উচ্চকক্ষ দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে গঠিত হবে।
এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি শুধু নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন না। নিম্নকক্ষের পাশাপাশি, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে, সেই উচ্চকক্ষের সদস্যদের ভোটও লাগবে।
এতে কোনো একক দল বা নেতার ইচ্ছায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং বিভিন্ন দলের সমর্থন অর্জনের সক্ষমতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নোট অব ডিসেন্টের প্রশ্ন
বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ছিল মূলত উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে। তারা জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর মোট প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতের পরিবর্তে নিম্নকক্ষে অর্জিত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে ছিল।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের ভিন্নমত স্বাভাবিক এবং বৈধ। কোনো দল আলোচনার সময় একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারে এবং তার ভিন্নমত আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধও করতে পারে।
কিন্তু নোট অব ডিসেন্ট ছিল গণভোটের আগের একটি দলীয় রাজনৈতিক অবস্থান। পরবর্তী সময়ে জনগণের সামনে যে সংস্কার-প্যাকেজ উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেখানে দলগুলোর জাতীয়ভাবে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিধান স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভোটারদের সামনে একটি হ্যাঁ বা না প্রশ্ন রাখা হয়েছিল; প্রতিটি ধারা আলাদাভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ ছিল না।
গণভোটে জনগণ সেই সামগ্রিক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত হিসাবে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি ‘না’ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ বৈধ ভোটের প্রায় ৬৮ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল প্রস্তাবের পক্ষে।
অতএব নোট অব ডিসেন্ট ইতিহাস ও রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে থাকবে, কিন্তু গণভোটের পর রাষ্ট্রের করণীয় জনগণের রায় অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া উচিত।
সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বনাম গণভোট
বিএনপি বলতে পারে, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ায় জনগণ তাদের রাজনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে।
এই যুক্তির একটি ভিত্তি অবশ্যই আছে। নির্বাচনে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া একটি সরকারকে শক্তিশালী রাজনৈতিক ম্যান্ডেট দেয়।
কিন্তু সংসদীয় আসনের সংখ্যা এবং মোট জনপ্রিয় ভোটের অনুপাত এক বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশনের দলভিত্তিক হিসাবে বিএনপি মোট ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ পেয়েছে। অন্যদিকে গণভোটে সংস্কার-প্যাকেজের পক্ষে বৈধ ভোটের প্রায় ৬৮ দশমিক ২৬ শতাংশ পড়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে জনগণ দুটি আলাদা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।
সংসদ নির্বাচনে জনগণ দেশ পরিচালনার জন্য সরকার ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। গণভোটে তারা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
সুতরাং সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার পরিচালনার শক্তিশালী ম্যান্ডেট। কিন্তু সেই ম্যান্ডেট একই দিনে দেওয়া জনগণের পৃথক ও প্রত্যক্ষ গণভোটের রায় পরিবর্তনের অধিকার দেয় না।
ব্রেক্সিটের শিক্ষা
যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট গণভোট এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে প্রচার করেছিল। কিন্তু জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় দেওয়ার পর সরকার নিজের রাজনৈতিক পছন্দকে জনগণের রায়ের ওপরে রাখতে পারেনি।
ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে অনেক বিতর্ক, জটিলতা ও মতপার্থক্য হয়েছে। কিন্তু মূল গণতান্ত্রিক নীতিটি ছিল স্পষ্ট—সরকার গণভোট আয়োজন করে জনগণের রায় নেওয়ার পর নিজের আগের অবস্থান দেখিয়ে সেই রায় উপেক্ষা করতে পারে না।
বাংলাদেশেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
৯০ দিনের সময়সীমার প্রশ্ন
বর্তমান সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।
অন্যদিকে গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদকে ১৮০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
ফলে এখন দুটি সময়সীমা পাশাপাশি রয়েছে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৯০ দিন, সামগ্রিক সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য ১৮০ কার্যদিবস।
এই সময়সীমার পার্থক্যকে পুরোনো পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। সরকার বলতে পারে, উচ্চকক্ষ এখনো গঠিত হয়নি এবং সামগ্রিক সংস্কার শেষ হয়নি; অথচ ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তাই বর্তমান এককক্ষবিশিষ্ট সংসদের সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
কিন্তু এই যুক্তিতে একটি আইনি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়। ১২৩(২) অনুচ্ছেদ প্রণীত হয়েছিল পুরোনো এককক্ষ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে। গণভোট সেই পুরোনো পদ্ধতিকেই প্রত্যাখ্যান করে নতুন পদ্ধতি অনুমোদন করেছে—এটি জনগণের সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক রায়। সময়সীমা আর পদ্ধতি এক জিনিস নয়। ৯০ দিন বহাল থাকবে, কিন্তু তার ভেতরের “পদ্ধতি” আর পুরোনো এককক্ষীয় পদ্ধতি হতে পারে না।
কিন্তু এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হলে গণভোটে অনুমোদিত নতুন পদ্ধতি অন্তত আরেকটি পূর্ণ রাষ্ট্রপতি মেয়াদের জন্য পিছিয়ে যাবে। একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। অর্থাৎ জনগণ নতুন পদ্ধতি অনুমোদন করলেও তার প্রথম বাস্তব প্রয়োগ পাঁচ বছর পর হতে পারে।
এটি গণভোটের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
এখানে আরেকটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়—পুরোনো পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি বসে গেলে উচ্চকক্ষ গঠনে সরকারের তাড়া থাকবে কেন? পদ পূরণ হয়ে গেলে সংস্কারটি আর জরুরি থাকে না, হয়ে দাঁড়ায় “ভবিষ্যতের কোনো এক সময়ের” বিষয়। পুরোনো পদ্ধতি একবার ব্যবহৃত হলে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নের তাগিদই হারিয়ে যায়।
৯০ দিনের বিধানের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রপতির পদ দীর্ঘ সময় শূন্য না রাখা। এর উদ্দেশ্য পুরোনো নির্বাচনপদ্ধতিকে আরও পাঁচ বছরের জন্য রক্ষা করা নয়।
তাই ৯০ দিনের সময়সীমা মানতে হবে, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।
কীভাবে এগোনো সম্ভব
উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের গণতান্ত্রিক ভিত্তি নির্ধারণের জন্য নতুন জাতীয় নির্বাচন প্রয়োজন নেই। জাতীয় নির্বাচনে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সেই তথ্য প্রকাশ করেছে। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশেও উচ্চকক্ষকে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে গঠনের কথা বলা হয়েছে।
তবে শুধু ভোটের হিসাব জানাই যথেষ্ট নয়। উচ্চকক্ষ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন, আইন, সদস্য মনোনয়নের নিয়ম, যোগ্যতা, শপথ এবং কার্যপ্রণালি নির্ধারণ করতে হবে।
সামগ্রিক সংস্কারের সব বিষয় একসঙ্গে শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও উচ্চকক্ষ গঠনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিধানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব।
প্রয়োজনে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ প্রথম পর্যায়ে—
উচ্চকক্ষ গঠনের আইনি ভিত্তি, দলভিত্তিক আসন বণ্টনের সূত্র, সদস্য মনোনয়নের পদ্ধতি এবং দুই কক্ষের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান চূড়ান্ত করতে পারে।
এরপর নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা সম্ভব হতে পারে।
আইনি বা কারিগরি প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দূর করার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। বাস্তবায়ন আদেশে উচ্চকক্ষ গঠনের পথে বাধা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান ও নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অতএব “সময় নেই” বলা যথেষ্ট নয়। প্রশ্ন হলো—রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে কি না।
সরকারের পছন্দ নয়, জনগণের সিদ্ধান্ত
জুলাই সনদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত সংস্কার সরকারের সুবিধা-অসুবিধা বিচারে বাস্তবায়িত হবে—এমন ঐচ্ছিক বিষয় নয়।
৯০ দিনের বিধান শুধু বলে, কত দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে—কোন পদ্ধতিতে, তা বলে না। তাই এই সময়সীমাকে পুরোনো পদ্ধতি টিকিয়ে রাখার অজুহাত বানানো যায় না।
পুরোনো পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতী নির্বাচন করলে ৯০ দিনের শর্ত হয়তো পূরণ হবে, কিন্তু গণভোটে অনুমোদিত নতুন পদ্ধতির প্রথম পরীক্ষাতেই তা ব্যর্থ হবে।
বর্তমান সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। আমরা সেই আস্থা রাখতে চাই—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত সংস্কারকে দ্রুত অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এবং তার বাস্তবায়ন-পদ্ধতি জনগণকে স্পষ্ট জানানো হবে।
জুলাই শিখিয়েছে, শুধু মানুষ বদলালেই যথেষ্ট নয়; ক্ষমতার নিয়ম ও কাঠামোও বদলাতে হয়। পুরোনো কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি আশা করা যায় না।
তাই আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেবল নতুন একজনকে পদে বসানোর বিষয় নয়। এটি পরীক্ষা করবে—গণভোটের রায় রাষ্ট্র পরিচালনার জীবন্ত নির্দেশনা হবে, নাকি সিদ্ধান্তের মুহূর্তে পুরোনো ব্যবস্থাই ফিরে আসবে।
জুলাইয়ের প্রকৃত সম্মান স্মরণসভা বা স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। জনগণের অনুমোদিত সংস্কার রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে বাস্তবে প্রয়োগ করাই জুলাইয়ের প্রতি সবচেয়ে অর্থবহ শ্রদ্ধা।
মহিউদ্দিন আহমেদ: কানাডাপ্রবাসী কলামিস্ট ও অর্থনীতি-রাজনীতি বিশ্লেষক।