অবিশ্বাস্য, অথচ সত্য: বিজ্ঞানের কয়েকটি অদ্ভুত খবর
বিজ্ঞান কখনো কখনো এমন সব খবর আমাদের সামনে নিয়ে আসে, যা প্রথম শুনলে কল্পকাহিনি বলে মনে হয়। কিন্তু ঘটনাগুলো সত্য—এবং গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা।
গত দুই সপ্তাহেও তেমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞান কখনো কখনো এমন সব খবর আমাদের সামনে নিয়ে আসে, যা প্রথম শুনলে কল্পকাহিনি বলে মনে হয়। কিন্তু ঘটনাগুলো সত্য—এবং গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা।
গত দুই সপ্তাহেও তেমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।
(লেখাটি ২০২৪ সালের মে মাসে লিখেছিলাম। আমরা অধিকাংশই ইতিহাস পড়ি না। বোঝার চেষ্টা আরও কম করি। নেতা বলেছেন, ‘ওই লোকটি খারাপ, অতএব খারাপ, তার ১৪ গোষ্ঠীর সবাই খারাপ। মহাখারাপ। প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে ইতিহাসের বয়ান দাঁড় করাতে চেষ্টা করি। জিন্নাহ নিয়ে এখন তাই হচ্ছে। জিন্নাহর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিজেপির বিরাগভাজন হয়েছিলেন বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী জসওয়ান্ত সিং। মন্ত্রীত্ব ছেড়েছিলেন, কিন্তু জিন্নাহ সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন পরিবর্তন করেননি। জিন্নাহকে নিয়ে বাংলাদেশে তুলকালাম কাণ্ড শুরু হয়েছে। আড়াই বছর আগে আমার লেখাটি পাঠে অনেকে উপকৃত হতে পারেন বলে মনে হলো।)
বিজ্ঞানের দুটি সাম্প্রতিক খবর ভবিষ্যতের পৃথিবী সম্পর্কে নতুন করে ভাবাচ্ছে। একটি মানুষের চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়ে, অন্যটি মানুষের নিজের কোষ ব্যবহার করে দুর্বল হাড় পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে।
দুটি ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু দুটির মধ্যেই রয়েছে একই ধরনের চেষ্টা—প্রকৃতিতে আগে থেকেই থাকা তথ্য ও সম্পদকে নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
গত বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, নয়া দিগন্তে প্রকাশিত আমাদের প্রথম চিঠিতে আমরা বলেছিলাম—একসঙ্গে সব সংস্কার করতে হবে না, কিন্তু প্রতি মাসে অন্তত একটা কাজ শুরু করুন, যাতে মানুষ দেখতে পায় সরকার শুধু বদলায়নি, রাষ্ট্র চালানোর পদ্ধতিটাই বদলাচ্ছে। প্রথম মাসে আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বাজার ও জ্বালানি খাতে ডিজিটাল তদারকির প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আজ দ্বিতীয় মাসের প্রস্তাব—পুলিশ।
যে প্রশ্নটা সবচেয়ে জরুরি
আপনার দলের অনেকে হয়তো ভাবছেন—পুলিশকে দলীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত করলে দেশ চালাবেন কীভাবে? এটি একটি মিথ্যা ধারণা (perception) ।
এই চিঠি শুধু একটি আবেদন নয়। এটি একটি প্রশ্নও।
বাংলাদেশ কি আবার পুরোনো পথে হাঁটবে? সরকার বদলাবে। মুখ বদলাবে। কিন্তু রাষ্ট্র চালানোর পদ্ধতি একই থাকবে?
নাকি জুলাইয়ের রক্ত, রাজনৈতিক ঐকমত্য আর গণভোটের রায়কে সামনে রেখে আমরা সত্যিই বদলাব?
আমরা দ্বিতীয় পথের কথা বলছি।
বিজ্ঞান প্রতি সপ্তাহে অসংখ্য খবর দেয়। কিন্তু কিছু খবর সত্যিই থামিয়ে দেয়—ভাবতে বাধ্য করে। ১৫ থেকে ২১ আগস্ট ২০২৬—এই এক সপ্তাহে এমন তিনটি খবর এসেছে, যেগুলো মানুষের ভবিষ্যতের তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দেয়: রোগের বিরুদ্ধে লড়াই, মস্তিষ্কের রহস্য বোঝার চেষ্টা এবং পৃথিবীর বাইরে মানুষের যাত্রাকে নিরাপদ করা।
নক্ষত্র নয়, চেনা ব্ল্যাক হোলও নয় মহাবিশ্বের আদিকালে খুঁজে পাওয়া রহস্যময় ‘Black Hole Star’ James Webb Space Telescope-এর নতুন আবিষ্কার — সহজ ভাষায় 🔭 এক নজরে বস্তুর নাম MoM-BH*-1, ডাকনাম ‘Black Hole Star’ আলো রওনা দিয়েছিল মহাবিশ্বের জন্মের মাত্র ~৬৬০ মিলিয়ন বছর পর অর্থাৎ বয়স ১৩ বিলিয়ন বছরেরও বেশি আগের ছবি কেন্দ্রের ব্ল্যাক হোলের ভর…
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতা বদলালেও রাষ্ট্র পরিচালনার পুরোনো কাঠামো খুব কমই বদলায়। এই প্রবন্ধে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির শিকড়, তার পরিণতি এবং রাষ্ট্রকে দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
দাঁতের মাড়ির রোগকে আমরা অনেক সময় সামান্য bleeding বা bad breath-এর সমস্যা বলে দেখি। কিন্তু periodontitis দীর্ঘস্থায়ী হলে দাঁতের চারপাশের supporting tissue ও bone ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দাঁত হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এই রোগের একটি বড় সমস্যা হলো periodontal pocket-এর গভীরে তৈরি bacterial biofilm—যেখানে ওষুধ পৌঁছানো এবং জমাট biofilm পুরোপুরি সরানো কঠিন হতে পারে। ৫ আগস্ট ২০২৬-এ Science Advances-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা এই সমস্যার জন্য বেশ অস্বাভাবিক সমাধান পরীক্ষা করেছে: nanothorn-যুক্ত ionogel microrobot।
## রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জুলাই সনদের প্রস্তাবিত গোপন ভোটের দাবি কোথায়?
একটি ছোট্ট কিন্তু ধারালো প্রশ্ন—নতুন রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হচ্ছেন? শেখ হাসিনার আমলের পদ্ধতিতে, নাকি জুলাই সনদের আলোকে?
এই প্রশ্নটিকেই যেন সুকৌশলে চাপা দিয়ে রেখেছে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষ। কথা ছিল, নতুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি আর শেখ হাসিনার আমলের মতো একটি দলের ইশারায় নির্বাচিত হবেন না; সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে, জনগণের প্রতিনিধিদের রায়ে নির্বাচিত হবেন।
উচ্চকক্ষ এখনো গঠিত হয়নি—মানলাম। কিন্তু নিম্নকক্ষ তো আছে। অন্তত নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দাবি জোরালোভাবে তোলা যেত। কে বাধা দিয়েছিল?
বিরোধী দল চাইলে এ দাবিতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারত। জনগণকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে পারত—জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি সরকারের মুখের কথা ও কাজের মধ্যে মিল নেই। অথচ তারা সেই সুযোগটি কাজে লাগায়নি।
সরকারের আগ্রহ নেই—এতে হয়তো বিস্ময়ের কিছু নেই। কিন্তু বিরোধী দলের ভূমিকা কী? তারা ইতিমধ্যে নিজেদের ১১-দলীয় জোটের একটি শরিক দলের একজনকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা যথেষ্ট দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মনে হয় না। জোটের কোনো দলীয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দিয়ে দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা একজন সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করা যেত।
কিন্তু মূল প্রশ্ন শুধু প্রার্থী কে হবেন, সেটি নয়; রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি কী হবে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরোনো পদ্ধতি বদলে সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটের বিধান কার্যকর করার দাবিই হওয়া উচিত ছিল আসল রাজনৈতিক লড়াই। অথচ সেই দাবি তোলার সময় বিরোধী দলের গলার জোর কোথায় হারিয়ে গেল?
প্রার্থী ঠিক করতে যতটা তৎপরতা, নির্বাচনপদ্ধতি বদলাতে ততটাই নীরবতা—এই বৈপরীত্যই সবচেয়ে বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়।
বিরোধী দলের উচিত ছিল এই দাবিকে রাজনৈতিক আন্দোলনের বিষয়ে পরিণত করা। সভা-সমাবেশে বলা উচিত ছিল—দেখুন, এই সরকার জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে; রাষ্ট্র সংস্কারের নামে শুধু সময়ক্ষেপণ করছে। সরকারের আন্তরিকতা যাচাই এবং সত্যটি জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য এটি ছিল একটি বড় সুযোগ।
অথচ বিরোধী দলও নীরব। আর এই নীরবতাই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তুলে ধরে—আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা কি সত্যিই ব্যবস্থা বদলাতে চান? নাকি নিজেদের প্রার্থী বসাতে পারলেই তাঁরা সন্তুষ্ট? তাঁরাও কি অপেক্ষায় আছেন, নিজেদের পালা এলে সেই একই পুরোনো ক্ষমতার চেয়ারে বসবেন বলে?
ব্যক্তি বদলালেই নতুন বাংলাদেশ তৈরি হয় না। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে ক্ষমতার কাঠামো ও নির্বাচনের পদ্ধতিও বদলাতে হবে। রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তিনি কোন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হচ্ছেন, সেটি তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একটি ভিডিও বানালেন কিন্তু সে বিষয়টি বললেন না।