|

বিশ্বকাপের উন্মাদনা ও কিছু ভাবনা

ফুটবল বিশ্বকাপ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া-উৎসবগুলোর একটি। কয়েক সপ্তাহের জন্য দেশ, ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির সীমানা অতিক্রম করে কোটি কোটি মানুষ একই আনন্দে যুক্ত হয়। জীবনের চাপ, ক্লান্তি ও একঘেয়েমির মধ্যে খেলা মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। পরিবার ও বন্ধুদের একত্র করে। খেলোয়াড়দের দক্ষতা, শৃঙ্খলা, দলগত প্রচেষ্টা ও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা মানুষকে অনুপ্রাণিতও করে।

তাই বিশ্বকাপ দেখা, প্রিয় দলের জন্য উল্লাস করা কিংবা একটি সুন্দর গোল উপভোগ করার মধ্যে দোষের কিছু নেই। বরং এটি এমন একটি আন্তর্জাতিক আনন্দঘন আয়োজন, যেখানে ভিন্ন দেশ, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একই আবেগে অংশ নেয়। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও গ্যালারি ও জনসমাগমে মানুষ একে অপরের সংস্কৃতি চিনতে পারে, বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং মানবজাতির যৌথভাবে আনন্দ করার সামাজিক ক্ষমতাকে প্রকাশ করে।

কিন্তু একই আয়োজন মানুষের সংকীর্ণতাকেও প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। কোনো খেলোয়াড়ের গায়ের রং, ধর্ম, জাতিগত পরিচয় কিংবা দেশের কারণে তাকে অপমান করা; পরাজিত দল ও তার সমর্থকদের ঘৃণা করা; কিংবা রাজনৈতিক বিদ্বেষকে খেলার মাঠে টেনে আনা দেখিয়ে দেয়—প্রযুক্তি ও সভ্যতায় অনেক দূর এগোলেও মানবসমাজ এখনো বহু পুরোনো পূর্বাগ্রহ থেকে মুক্ত হতে পারেনি।

এ অর্থে বিশ্বকাপ শুধু একটি খেলা নয়; এটি মানুষ ও সমাজকে বোঝারও একটি বড় আয়না। এখানে যেমন মানবজাতির মিলন, সৌহার্দ্য ও আনন্দ প্রকাশ পায়, তেমনি অহংকার, বর্ণবাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং অসহিষ্ণুতাও প্রকাশিত হয়।

সমস্যা আনন্দে নয়। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন আনন্দ উন্মাদনা বা আসক্তিতে পরিণত হয় এবং খেলা আমাদের সময়, চিন্তা ও দায়িত্ববোধকে গ্রাস করতে শুরু করে।

বিশ্বকাপের সময় আমাদের সমাজের একাংশ বিদেশি দল ও খেলোয়াড়দের নিয়ে এমনভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে, যেন তাদের জয়-পরাজয়ের সঙ্গে আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে। রাতের পর রাত ঘুম নষ্ট হয়, কাজ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তর্ক ব্যক্তিগত বিদ্বেষে গড়ায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পতাকা, দল কিংবা খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তখন খেলাপ্রেম আর সুস্থ বিনোদন থাকে না; তা আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর লক্ষণে পরিণত হয়।

এখানে একটি অস্বস্তিকর বৈপরীত্যও রয়েছে। আমরা দূরদেশের একজন খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা, ক্লাবজীবন, চোট কিংবা ব্যক্তিগত ইতিহাস পর্যন্ত জানি। কিন্তু নিজের দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি, কৃষি, বিচারব্যবস্থা কিংবা অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কে একই আগ্রহ দেখাই না। একটি বিদেশি দলের পরাজয় আমাদের কষ্ট দেয়, অথচ নিজ সমাজের অন্যায়, দারিদ্র্য ও তরুণদের হতাশা অনেক সময় আমাদের ততটা নাড়া দেয় না।

এবারের বিশ্বকাপের কিছু ঘটনা আবার দেখিয়েছে, ফুটবল এখন শুধু মাঠের প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বার্থও জড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক তার একটি বড় উদাহরণ। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে তাঁর নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার অনুরোধ জানান। পরে ফিফা লাল কার্ড বহাল রেখেও তাঁর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের পরীক্ষাকালীন সময়ের জন্য স্থগিত করে দেয়। ফলে তিনি পরবর্তী ম্যাচে খেলার সুযোগ পান।

ফিফার বক্তব্য হলো, শৃঙ্খলা কমিটি বিধি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—একটি স্বাগতিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কেন নিজ দেশের একজন খেলোয়াড়ের শাস্তি নিয়ে ফিফা সভাপতির কাছে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করবেন? সেই ফোনের পরই কেন এমন একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত আসবে?

একই ধরনের অপরাধে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাহকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও বালোগুনের শাস্তি স্থগিত করা হয়। সাবেক ফিফা রেফারিরা এই ভিন্ন ব্যবস্থার যৌক্তিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। উয়েফাও সিদ্ধান্তটির তীব্র সমালোচনা করেছে। নিয়মের প্রয়োগ যদি দল, দেশ কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে ভিন্ন মনে হয়, তাহলে খেলার ন্যায়সংগত চরিত্র এবং ফিফার নিরপেক্ষতা—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে ইরান দলের প্রতি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের আচরণও সমতার প্রশ্ন তুলেছে। ইরানের খেলোয়াড়েরা প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পেয়েছিলেন। দলের কিছু কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী ভিসা পাননি। অনিশ্চয়তার কারণে দলটিকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত ঘাঁটির পরিবর্তে মেক্সিকোর তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হয়েছে।

প্রথম দিকে ইরান দলকে ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং খেলা শেষ হওয়ার দিনই দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাদের মেক্সিকো থেকে বারবার সীমান্ত অতিক্রম করতে হয়েছে। পরে তৃতীয় ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্র বিধিনিষেধ সামান্য শিথিল করে দুই দিন আগে প্রবেশের অনুমতি দেয়; কিন্তু ম্যাচের পর দ্রুত চলে যাওয়ার শর্ত বহাল রাখে। ইরানি ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করেছিল, এই ব্যবস্থা অন্যান্য দলের তুলনায় তাদের প্রস্তুতি ও বিশ্রামের সুযোগ ক্ষুণ্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দিয়েছে।

নিরাপত্তা যাচাই একটি রাষ্ট্রের অধিকার। কিন্তু বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ হলো, বৈরী সম্পর্কের দেশের প্রতিযোগীদেরও মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং যথাসম্ভব সমান প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া। মাঠে সমতা দাবি করে মাঠের বাইরে কোনো দলকে অস্বাভাবিক প্রতিবন্ধকতার মুখে ফেললে বিশ্বকাপের ঐক্য ও সৌহার্দ্যের বার্তা দুর্বল হয়ে যায়।

এখানে বৈপরীত্যটি বিশেষভাবে চোখে পড়ে। একদিকে স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্ট নিজ দলের খেলোয়াড়ের শাস্তি কমানোর জন্য ফিফা সভাপতির সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন; অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে বৈরী একটি দেশের খেলোয়াড়দের প্রবেশ, অবস্থান ও চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এই দুই ঘটনা পাশাপাশি রাখলে বিশ্বকাপে ক্ষমতা, রাজনীতি ও বৈষম্যের উপস্থিতি অস্বীকার করা কঠিন।

এবারের বিশ্বকাপে বর্ণবাদী ও বিদ্বেষমূলক আচরণের ঘটনাও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফিফা জানিয়েছে, অনলাইন নির্যাতনের ঘটনা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে পরাজয়ের পর পেনাল্টি মিস করা নেদারল্যান্ডসের কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোও বলেছে, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; ফুটবলে একটি ক্রমবর্ধমান ও পদ্ধতিগত সমস্যার লক্ষণ।

একজন খেলোয়াড় খারাপ খেলতে পারেন, পেনাল্টি মিস করতে পারেন কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার সমালোচনাও হতে পারে। কিন্তু গায়ের রং, ধর্ম বা জাতিগত পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করা কোনোভাবেই খেলাপ্রেম নয়। এটি মানুষের সামাজিক সংকীর্ণতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের প্রকাশ। যে বিশ্বকাপ মানুষকে কাছে আনার কথা, সেখানে বর্ণবাদী আক্রমণ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মাঠের সৌহার্দ্যের পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতার বিরুদ্ধেও লড়াই প্রয়োজন।

অতিরিক্ত গরমে খেলোয়াড়দের রক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক জলপানের বিরতি নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা অবশ্যই সর্বাগ্রে থাকা উচিত। কিন্তু প্রতিটি অর্ধে নির্ধারিত বিরতি খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছে কি না এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য বাণিজ্যিক বিরতিতে পরিণত হচ্ছে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকেরা মনে করেন, কোচেরা এটিকে কৌশলগত টাইম-আউট হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ এতে বদলে যাচ্ছে।

আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্য, দর্শকের আনন্দ এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ—এই তিনটির মধ্যকার সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। দর্শক ভাবছেন, তিনি কেবল খেলা দেখছেন; বাস্তবে তাঁর সময়, মনোযোগ, আবেগ, পছন্দ এবং ভোগের অভ্যাসও একটি বিশাল বৈশ্বিক বাজারের অংশ হয়ে উঠছে।

এই জায়গায় সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তারা পাঠকের সমকালীন আগ্রহের বিষয় ছাপাতে চাইবে—এটাই স্বাভাবিক। কারণ পাঠকসংখ্যা, অনলাইন ক্লিক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার, বিজ্ঞাপন এবং আয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্বকাপের ম্যাচ, সম্ভাব্য একাদশ, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গল্প, পরিসংখ্যান, পূর্বাভাস এবং খেলা-পরবর্তী পর্যালোচনা সহজেই বিপুল পাঠক টানে। এর পেছনে তাই স্পষ্ট বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে।

কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না—গণমাধ্যম কি শুধু পাঠকের বর্তমান আগ্রহ অনুসরণ করবে, নাকি সেই আগ্রহকে আরও দায়িত্বশীল ও চিন্তাশীল করে তোলার কাজও করবে?

একটি ভালো সংবাদপত্রের কাজ শুধু মানুষ যা পড়তে চায়, তা ছাপানো নয়; মানুষকে কী নিয়ে ভাবা প্রয়োজন, সেটিও সামনে আনা। খেলার খবর অবশ্যই থাকবে। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, বিচার, সংস্কৃতি, পরিবেশ কিংবা রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণধর্মী লেখা যদি জায়গা না পায়, অথচ একই ম্যাচ নিয়ে একাধিক সংবাদ, পূর্বাভাস ও পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়, তাহলে গণমাধ্যমের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

অনেকে বলেন, পাঠক এসবই চায়। কথাটি আংশিক সত্য। কিন্তু গণমাধ্যম শুধু পাঠকের রুচি অনুসরণ করে না; রুচি তৈরিও করে। প্রতিদিন কোন বিষয় বড় শিরোনাম পাচ্ছে, কোন সংবাদ বারবার সামনে আনা হচ্ছে এবং কোন আলোচনাকে আড়ালে রাখা হচ্ছে—এসবই মানুষের আগ্রহকে প্রভাবিত করে। গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আকর্ষণীয় ভাষায় উপস্থাপন করা হলে সেগুলোরও পাঠক তৈরি হয়।

একটি ভালো লেখা প্রস্তুত করতে সময়, পাঠ, অনুসন্ধান ও চিন্তার প্রয়োজন হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বেশি ক্লিক পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সেই লেখা প্রকাশের সুযোগ না পেলে ক্ষতিটি শুধু লেখকের নয়। এতে সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর সংকুচিত হয়। ধীরে ধীরে এমন একটি পাঠকসমাজ তৈরি হয়, যারা উত্তেজনায় দ্রুত সাড়া দেয়, কিন্তু গভীর প্রশ্ন নিয়ে দীর্ঘ সময় ভাবতে অভ্যস্ত নয়।

এর সমাধান অবশ্য খেলাবিরোধিতা নয়। বিশ্বকাপ থাকবে, আনন্দ থাকবে, উল্লাস ও বিশ্লেষণও থাকবে। কিন্তু খেলাকে জাতীয় চিন্তার বিকল্প বানানো উচিত নয়। খেলার পাতার পাশাপাশি চিন্তার পাতাও শক্তিশালী হতে হবে। দর্শককে শুধু উত্তেজনা নয়, উপলব্ধিও দিতে হবে। গণমাধ্যমকে বাণিজ্যিক বাস্তবতার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

একটি সুস্থ জাতি খেলায় আনন্দ করে, কিন্তু খেলায় হারিয়ে যায় না। সে গোলের সৌন্দর্য উপভোগ করে, আবার খেলার অন্তরালের রাজনীতি, বৈষম্য ও বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়েও প্রশ্ন তোলে। সে বিদেশি দলের পতাকা ওড়াতে পারে, কিন্তু নিজের দেশের শিক্ষা, ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যতের পতাকা নামিয়ে রাখে না।

বিশ্বকাপ কয়েক সপ্তাহ পর শেষ হয়ে যাবে। খেলোয়াড়েরা নিজেদের দেশ ও জীবনে ফিরে যাবেন। আমাদের থেকে যাবে আমাদের সমাজ, আমাদের সমস্যা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই আনন্দ প্রয়োজন, কিন্তু আত্মবিস্মৃতি নয়; বিনোদন প্রয়োজন, কিন্তু বিবেক, ন্যায়বোধ ও দায়িত্ববোধের বিনিময়ে নয়।

লেখক পরিচিতি

মহিউদ্দিন আহমেদ একজন কানাডাপ্রবাসী রাজনৈতিক বিশ্লেষককলামিস্টসমসাময়িক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন।

Share:

Similar Posts